Skip to main content

শেয়ার কেনার নিয়ম - একটি সম্পূর্ন গাইড

আপনি কি শেয়ার কেনার নিয়ম জানতে চাইছেন? 

তাহলে এই আর্টিকেলটি যত্ন সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। শেয়ার মার্কেটে ( Share Market) যারা নতুন নতুন বিনিয়োগ করতে চান তাদের কাছে এটা জানা খুবই জরুরী যে শেয়ার মার্কেট কি এবং শেয়ার কেনার নিয়মগুলি কি। এই নিবন্ধে আমি শেয়ার কেনার নিয়মগুলি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারণা দেবো এবং শেয়ার কেনার আগে কি কি বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত এবং কেনার পর কোন বিষয়গুলি আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে সবকিছুই আপনি জানতে পারবেন।

শেয়ার কেনার নিয়ম- একটি সম্পূর্ন গাইড

শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ ( Stock Market Investment)একটি লাভজনক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে সবকিছু জেনে এবং বিশ্লেষণ করার পরে বিনিয়োগ করতে পারেন তাহলে মার্কেট থেকে আপনি সবসময় লাভবান হবেন। চলুন এবার জেনে নিন শেয়ার কেনার নিয়ম গুলি কি অর্থাৎ কি কি বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে - 

শেয়ার কেনার নিয়ম

Telegram Channel  Join Now

শেয়ার কেনা মানে কি ? 

কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা মানে হল সেই কোম্পানির অংশীদার হওয়া। অর্থাৎ সেই কোম্পানির কিছু অংশ আপনি টাকা দিয়ে কিনলেন। এবার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আপনার কেনা কোম্পানী যদি ভবিষ্যতে আরো উন্নতি করে তাহলে  তার শেয়ারের দাম বাড়বে। এবং শেয়ারের দাম বাড়লে আপনার বিনিয়োগ করা টাকাও বাড়বে। তখন শেয়ারটি বিক্রি করে আপনি আপনার লভ্যাংশ নিয়ে নিতে পারবেন।


শেয়ার কেনার নিয়ম 

  • ডিমাট একাউন্ট খুলুন : শেয়ার কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই একটি ডিমাট অ্যাকাউন্ট ( Demat Account) খুলতে হবে। যেটিকে ব্রোকার একাউন্ট ও বলা হয়। এই ডিমাট একাউন্টের মাধ্যমেই আপনি শেয়ার কেনা বেচা করতে পারবেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি ডিমাট একাউন্ট তৈরি করতে পারেন। কিছু ব্রোকার কোম্পানির নাম যেমন - Groww, Zerodha, Angle One, 5 Paisa ইত্যাদি। 
  • শেয়ার নির্বাচন করুন: ডিমাট একাউন্ট খোলার পর আপনার এবার কাজ হবে বিভিন্ন কোম্পানির এনালাইসিস করা। আপনি কত দামে কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে চান সেটি নির্ধারণ করুন। যদি আপনি একজন ইনভেস্টর হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বিনিয়োগ করার আগে সেই কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করবেন এবং সেই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক মডেল ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভালো করে জানার পরে বিনিয়োগ করবেন।
  • শেয়ারের দাম নির্ধারণ করুন: কোম্পানির শেয়ার এনালাইসিস করার পর আপনাকে ঠিক করতে হবে সেই শেয়ারটি সঠিক দাম। মনে রাখবেন আপনি যদি হাই ভ্যালুতে এন্ট্রি নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রফিট মার্জিন কম হবে। আপনাকে সবসময় আন্ডার ভ্যালুড এবং সঠিক দামে শেয়ারটিকে কিনতে হবে। আপনার ব্রোকার একাউন্টে আপনি Buy অপশন দেখতে পাবেন। সেটিতে ক্লিক করার পরে কতগুলো শেয়ার কিনতে চান সেই সংখ্যা আপনাকে বসাতে হবে তারপর Buy অপশন এ ক্লিক করতে হবে। আপনি ওখানে অর্ডার লিমিট ও লাগাতে পারেন। ধরুন কোন শেয়ারের দাম ১০০ টাকা চলছে কিন্তু আপনি সেটিকে ৯৬ টাকায় কিনতে চান, আপনাকে অর্ডার লিমিট অপশন সিলেক্ট করার পরে সেখানে টাকার অ্যামাউন্ট টি লিখে অর্ডার প্লেস করতে হবে। 

আরও পড়ুন:

ক্লিক করুন - শেয়ার মার্কেট কি? কিভাবে শুরু করবো ?  

ক্লিক করুন - শেয়ার কেনার কত দিন পর বিক্রি করা যায় :  কখন বিক্রি করা উচিত ? 

ক্লিক করুন - শেয়ার বাজারে সর্বনিম্ন কত টাকা বিনিয়োগ করা যায় ? 

ক্লিক করুন - ভালো শেয়ার চেনার উপায় : ১৪ টি কার্যকরী টিপস 

ক্লিক করুন - ব্যাংকিং স্টকস এনালিসিস করার পদ্ধতি: একটি সম্পূর্ন গাইড

শেয়ার কেনার সময় কি কি বিষয়ে মাথায় রাখবেন 

  • আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: কোন কোম্পানি শেয়ার কেনার আগে আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনি শর্ট টার্ম বিনিয়োগ করে দ্রুত রিটার্ন চান নাকি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চান সেটি ঠিক করে নিতে হবে। এবং সেই হিসেবেই আপনার বিনিয়োগের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বিনিয়োগ করার আগে থেকেই যদি আপনার মাথায় পরিষ্কার পরিকল্পনা না থাকে তাহলে শেয়ার বিক্রির সময় আপনি দ্বন্দ্বে ভুগতে পারেন।
  • রিস্ক ম্যানেজমেন্ট: শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ সুতরাং আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারেন তা আগে থেকেই ঠিক করে নিন। আপনার সমস্ত সঞ্চয় করা টাকা কখনো শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করে দেবেন না। এবং লোন নিয়ে কখনো বিনিয়োগ করবেন না। যারা একদমই নতুন তারা স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপ এর ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিতে সব সময় অল্প টাকা বিনিয়োগ করবেন। যে কোম্পানি গুলো লার্জ ক্যাপ এবং প্রতিষ্ঠিত সেই সমস্ত কোম্পানিতে বেশি টাকা বিনিয়োগ রাখবেন।
  • ভালোভাবে গবেষণা করুন: যে কোম্পানির শেয়ার কিনবেন সেই কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেল এবং কোম্পানি যে প্রোডাক্ট তৈরি করে বা সার্ভিস দিয়ে থাকে তার ভবিষ্যতে কেমন ডিমান্ড আছে সেগুলি নিয়ে গবেষণা করুন। এবং অবশ্যই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, অর্থাৎ Profit - Loss, Cash Flow, অন্যান্য ফান্ডামেন্টাল ভালো করে বিশ্লেষণ করবেন। 


শেয়ার কেনার সময় কি কি বিষয় এড়িয়ে চলবেন 

  • আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন: কখনো আবেগপূর্ণ হয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন না। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অথবা ট্রেডিং যাই করুন না কেন সব সময় আবেগকে দূরে সরিয়ে রাখবেন।
  • প্রতিষ্ঠিত ব্রোকার নির্বাচন: অনেক ব্রোকার কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে বা কম খরচে সে আর লেনদেনের সুবিধা দেয়। এই সমস্ত ব্রকার কোম্পানির মান বা সার্ভিস ভালো নাও হতেও পারে তো তাই সবসময় মার্কেটে যে সমস্ত ব্রকার কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত এবং বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহার করছে সে সমস্ত প্রকার কোম্পানি নির্বাচন করুন।
  • লোভের বসবর্তী হবেন না: শেয়ার মার্কেট থেকে দ্রুত রিটার্ন পাওয়ার প্রলোভন খুব বেশি। আপনি ইউটিউবে থাম্বনেল বা ভিডিওতে অনেক কিছুই দেখতে পাবেন। কিন্তু কখনো লোভের বশবর্তী হয়ে বিনিয়োগ করবেন না। 
  • অন্যের কথায় বিনিয়োগ করবেন না: নিজে অ্যানালিসিস না করে এবং সেই কোম্পানি সম্পর্কে আপনার কনফিডেন্স না পেলে শুধুমাত্র অন্যের কথায় শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করতে যাবেন না। 


শেয়ার কেনার পর কি কি করবেন

  • আপনার পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করুন: সপ্তাহে একবার আপনার পোর্টফলিয়ার সমস্ত স্টক গুলি দেখুন। আপনার পোর্টফলিওটি বৈচিত্র্যপূর্ণ আছে কিনা তার নিশ্চিত করুন এবং আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য হিসেবে যে প্রফিটের টার্গেট রেখেছেন সেই টার্গেটে পৌঁছালে শেয়ার বিক্রি করুন। এছাড়া কোন কোম্পানির ফান্ডামেন্টালে বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়েছে কিনা সেটিও আপনাকে দেখতে হবে যদি তেমন কোন কিছু হয়ে থাকে তাহলে সেই কোম্পানিকে বিক্রি করে দেওয়ায় ভালো। 
  • নিয়মিত বিনিয়োগ করুন: আপনি যদি শেয়ারবাজারে শর্ট টার্ম অথবা লং টার্মের জন্য বিনিয়োগ করার লক্ষ্য নিয়ে থাকেন তাহলে  অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করতে থাকুন। তখনই আপনার শেয়ার ১০-১৫ ডাউনে আসবে তখন আবার কিছু বিনিয়োগ করুন এইভাবে আপনার মূল ক্যাপিটাল বাড়াতে থাকুন। এভাবে সঠিক পরিকল্পনা করে নিয়োগ করলে আপনার প্রফিট মার্জিন ও বেশি হবে।
  • ধৈর্য ধরুন: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হলো দীর্ঘমেয়াদী খেলা। আপনাকে অনেক ধৈর্য ধরতে হবে এবং অপেক্ষা করতে হবে তাহলেই আপনি শেয়ার বাজার থেকে বড় ধরনের প্রফিট তৈরি করতে পারবেন। 


উপসংহার

বন্ধুরা, এই নিবন্ধে শেয়ার কেনার নিয়ম থেকে শুরু করে শেয়ার কেনার আগে এবং পরে কি কি বিষয় মনে রাখতে হবে সেগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এই সমস্ত বিষয়গুলি একজন নতুন বিনিয়োগকারীর অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত।


Comments

Popular posts from this blog

শেয়ার মার্কেটে ট্রেডিং কি ,কত প্রকার, ট্রেডিং এর সুবিধা ও অসুবিধা | What Is Trading In Bengali

শেয়ার মার্কেটে ট্রেডিং কি , কতপ্রকার ট্রেডিং ( Trading ) হয় এবং ট্রেডিং সুবিধা ও অসুবিধা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে, নিচের এই নিবন্ধ টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।  Table Of Contents বর্তমান সময়ে, তরুণ প্রজন্ম এর কাছে ট্রেডিং ( Trading ) শব্দ টি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। প্রত্যেকেই শেয়ার মার্কেট ( Share Market ) থেকে ট্রেডিং করে ইনকাম করতে চাইছে। চারিদিক এ ট্রেডিং এর কোর্স ( Trading Online Course) বিক্রি হচ্ছে। তাই , আজ আপনাদের  কাছে ট্রেডিং কি , এবং কতপ্রকার ট্রেডিং শেয়ার মার্কেট এ করা যায়, সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরবো।  শেয়ার মার্কেটে ট্রেডিং কি ? [ What Is Trading in Bengali ] শেয়ার মার্কেটে অল্প সময়ের জন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা - বেচা ( Buy - Sell) কে ট্রেডিং বলা হয়। আপনি আজই কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনে আজকেই বিক্রি অথবা, ২ দিন পর বা ১ মাস পর বিক্রি করতে পারেন, এটিকেই সহজ ভাষায় ট্রেডিং হবে। ট্রেডিং মূলত টেকনিক্যাল এনালাইসিস ( Technical Analysis) নির্ভর। শেয়ার মার্কেটে ট্রেডিংয়ের জন্য কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস এর উপরে বেশি গুরু

কিভাবে শেয়ার মার্কেটে/বাজারে ব্যবসা শুরু করব: A to Z গাইড

কিভাবে শেয়ার মার্কেটে /বাজারে ব্যবসা শুরু করব - সম্পূর্ণ গাইড আপনি এখানে পেয়ে যাবেন। Table Of Contents বর্তমানে সময়ে শেয়ার মার্কেট বা স্টক মার্কেট ( Stock Market ) ইনভেস্টিং, ট্রেডিং ( Trading ),  মিউচুয়াল ফান্ড ( Mutual Fund ) এই সমস্ত শব্দগুলি আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। শেয়ার মার্কেটেও যে টাকা ইনভেস্ট করে সেটিকে আরো বড় ক্যাপিটাল তৈরি করা যায় মানুষ ধীরে ধীরে সেটি বুঝতে পারছে। এই নিবন্ধে আমরা দেখব কিভাবে শেয়ার মার্কেটে বা বাজারে ব্যবসা শুরু করতে হয় এবং এর প্রাথমিক পদক্ষেপ গুলি কি হতে পারে।  Telegram Channel  Join Now কিভাবে শেয়ার মার্কেট /বাজারে বিনিয়োগ শুরু করব ( How To Invest In Share Market )  বিগত কয়েক বছরে অনেক মানুষ শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক প্রকাশ করছে এবং   প্রচুর মানুষ এই শেয়ার মার্কেটে টাকা ইনভেস্ট করেছেন। কিন্তু সব সময় মনে রাখবেন শেয়ার মার্কেট হলো একটি ঝুঁকিপূর্ণ লাভজনক ব্যবসা। তাই নতুনদের জন্য এখানে কিছু গাইড দেওয়া হল যে কিভাবে শেয়ার বাজারে আপনি বিনিয়োগ শুরু করবেন -  ১. শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে শ

ভালো শেয়ার চেনার উপায় : ১৪ টি কার্যকরী টিপস

ভালো শেয়ার চেনার উপায় গুলি আপনি বুঝতে পারলেই খুব সহজেই স্টক মার্কেট থেকে বিনিয়োগ [ Stock Market Investing] করে অনেক লাভবান হতে পারবেন। এই পোস্টে ভালো শেয়ার নির্বাচনের ১০ উপায় নিয়ে  আলোচনা করবো অ আরও কিছু টিপস পাবেন। বন্ধুরা, স্টক মার্কেট [ Stock Market ]  হলো একটা ব্যবসা। আপনি স্টক মার্কেটে যে টাকা বিনিয়োগ করেন সেই টাকাগুলো ওই সমস্ত কোম্পানির ব্যবসাতে ইনভেস্ট হয়। তাহলে বুঝতে পারছেন সেই সমস্ত কোম্পানিগুলি যদি তাদের ইনকাম কে বাড়ায় এবং তারা ভবিষ্যতে আরও নিজেদের রেভিনিউকে গ্রো করে তাহলে আপনার বিনিয়োগ করা টাকাও বাড়বে। আর সে কারণেই ভালো শেয়ার চেনার কৌশল গুলি [ Good Stock Analysis Tips ]  আপনার জানা খুবই দরকার। ভালো শেয়ার চেনার উপায় : ১৪ টি কার্যকরী টিপস ভারতের শেয়ারবাজারে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি কোম্পানি আছে।তার মধ্যে থেকে সঠিক কোম্পানি বাছাই করতে গেলে কিছু বিষয় জানা দরকার। Long Term & Short Term Investing এ ভালো শেয়ার চেনার জন্য বিশ্লেষণ করার আগে আপনাকে শেয়ার মার্কেট কিভাবে কাজ করে সেটি জানতে হবে। Telegram Channel  Join Now এই নিবন্ধে আমি আলোচনা করব  এক